
ডুমুরিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ
খানাখন্দে পুকুর, বেহাল সড়কে নিত্যদিনের দুর্ভোগ—দীর্ঘদিনের এমন চিত্র অবশেষে বদলাতে যাচ্ছে ডুমুরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শাহপুর-দৌলতপুর সড়কে। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল। এবার সেই ভোগান্তির অবসানে সড়ক পুনর্বাসনের বড় কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলাধীন দৌলতপুর-শাহপুর জিসি রোডের চেইনেজ ৩৫০ থেকে ৬৯৬০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসনকাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স যুব কনস্ট্রাকশনকে Notice to Proceed দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), খুলনা। প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রাক্কলিত মূল্য ৫ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৮২ টাকা ৮৭ পয়সা এবং ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নিম্নদরে চুক্তিকৃত মূল্য ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার ৪৭১ টাকা ৯২ পয়সা।এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সরদার স্বাক্ষরিত নোটিশ অনুযায়ী, কাজ শুরুর তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ৮ মে ২০২৭। চুক্তি সম্পাদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি বাতিলের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে থমকে ছিল জনজীবন স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহপুর-থুকড়া-দৌলতপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে অনেক স্থান পুকুরের মতো হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, তেমনি হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে ওঠে।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কর্মজীবী মানুষকেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক চাকরিজীবী নিয়মিত যাতায়াত পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।এমনকি খুলনা দৌলতপুরের বিএল কলেজের গাড়িও সড়কের ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে চলাচলে সমস্যায় পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কাজে নতুন আশার আলো এলজিইডির নোটিশে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত মাটির কাজ ও প্রটেকশন ওয়ার্ক আগে সম্পন্ন করতে হবে। এসব কাজের আগে পেভমেন্ট মেরামত শুরু করা যাবে না। পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী এলজিইডির ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার যেন শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানসম্মত কাজের মাধ্যমে সড়কটির দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হয়।জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনর্বাসনের বাজেট ও কাজ বাস্তবায়নে বর্তমান খুলনা-৫ আসনের এমপি আলী আজগার লবীর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে আসায় এলাকাবাসীর মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।এখন স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা—বছরের পর বছর ভাঙাচোরা সড়কে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, নতুন সড়ক যেন টেকসই ও মানসম্মত হয়; ঠিকাদারি অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের কারণে যেন আবারও কয়েক বছরের মধ্যে সেই পুরোনো দুর্ভোগ ফিরে না আসে।
